কাওয়ালের শেষ যাত্রা

Historical Fiction is an Oxymoron …. তবু চেষ্টা করলাম   ……

পীর ফতেহ শাহ’র দরগায় উনিই ছিলেন মূল কাওয়াল । সন্ধ্যার মজলিশে কড়ি মা – সুরে লাগলে স্বয়ং ইমন যেন সশরীরে আবির্ভূত হতেন দরগা চত্তরে। পরওয়ারদিগারের কাছে তার নালিশ ভরা আকুতি যেন সেই সুরের ভেলায় ভেসে যেত ইপ্সিত লক্ষ্যের দিকে …..
কাভি ইয়াহাঁ তুম্হে ঢুন্ডা, কভি ওহা পুঁছা / তুম্হারী দীদ কি খাতির কাহাঁ কাহাঁ পুঁছা
গরীব মিট গায়ে, পামাল হো গায়ে লেকিন / কিসি তালাক না তেরা আজ তক নিশান পুঁছা……
ওই যে হুমায়নের মাক্বরার সিঁড়িতে শুয়েও আছেন যে বৃদ্ধ – উনিই সুফী চিস্তী পরম্পরার সেই প্রবাদপ্রতিম কাওয়াল। সুদূর আফগানিস্তানের হেরাত প্রদেশের ছোট্ট জনবসতি চিস্ত-এ যে পরম্পরার সূচনা করেন হজরত আবু ইশ্ক শামি। হজরত মইনুদ্দিন আজমের ও পাঞ্জাবে স্থাপন করেন এই ধারার। তারপর উস্তাদ থেকে শাগরিদ হয়ে – প্রবাহমান এই জীবনশৈলীর করুণাঘন রসে সিক্ত হয়েছে লক্ষ মানুষের ঊষর হৃদয়।
সুফী মতবাদের এই ধারায় যেমন সব ধর্মের বিশ্বাসীদের অবারিত দ্বার – তেমনি এই দর্শন যারা ধারণ করেন, তাদের প্রতি আছে কিছু নিষেধাজ্ঞা। ইলাহী ছাড়া আর কারো করুণা গ্রহণ করা – এমনকি রাজ্ অনুগ্রহ গ্রহণেও হারাম। জাগতিক ক্ষমতা থেকে দূরে থেকে দুস্থ ও আর্তের সেবা করাই চিস্তী মতবাদের মূল কথা।
ওই যে বৃদ্ধ – তার আসেপাশে নেই কোনো বাদ্য যন্ত্র।শুয়ে থাকা দীর্ঘ দেহের পাশে শুধু পড়ে আছে তোবড়ানো নিকেলের একটা বাটি। বলে না দিলে এই দিল্লির রাস্তায় আর পাঁচটা ভিখারির সাথে কোন ও তফাৎ করতে পারবেন না আপনি।
মৃত্যুর মিছিল নিয়ে এই শহরের আর তেমন কোনো মাথা ব্যাথা নেই। প্রতিদিন সাদা কাফনে ঢাকা দেহ দেখতে দেখতে কেমন যেন সহ্য গেছে মানুষের। শান্তি দলের স্বেচ্ছাসেবকরা ধর্ম নির্বিশেষে সেই সব দেহের সৎকার করছেন ধর্মীয় রীতি মেনে। সরকার থেকে কাফনের জন্য বরাদ্দ কাপড় দিনে দিন বহরে ছোট হচ্ছে। এত মানুষের জন্য বেঁচে থাকার রসদ নয় – কাফনের ব্যবস্থা করতেই হিমশিম খাচ্ছে সদ্য ভূমিষ্ঠ দেশের সরকার !!
কিন্তু আজ একটু সমস্যা হয়েছে। এই বৃদ্ধের কোনো আত্মীয় নেই – স্বজন নেই। তাকে সমাধিস্থ করার কেউ নেই। বৃদ্ধের পরিচয়ের জন্য জানাজা ইত্যাদি পারলৌকিক ক্রিয়া সম্পাদনার আর্জি সাফ নাকচ করে দিয়েছেন মৌলভী সাহেব। এদিকে আজ কোনো পুরুষ স্বেচ্ছাসেবকও নেই দলে – যে রীতিমাফিক দেহ স্নান করিয়ে কবরের জন্য তৈরী করবে। আনিস ও তার দলের মেয়েরা কি করবে বুঝে উঠতে পারছিলো না।
এদিকে বেলা প্রায় গড়িয়ে এলো। এখানে ওখানে দৈড়াদৌড়ি করে হতাশ মেয়েটি মক্বরার থামে হেলান দিয়ে বসে পড়লো। দিনান্তের গুমোট ভাবটা কাটতে একটা হালকা হাওয়া আনিসকে ছুঁয়ে গেলো। আশ্চর্য্য ! সে খেয়াল করেনি যে ঘন কালো মেঘে কখন ছেয়ে গেছে পুরো আকাশ। আর কিছুক্ষণের মধ্যেই ঝাপিইয়ে নামলো বৃষ্টি।
কিছুক্ষণ পর সন্ধ্যার অন্ধকার নামার সাথে সাথেই বৃদ্ধ কাওয়ালের বৃষ্টি ধৌত শরীরে কবরে মাটি পড়লো। চরাচর গেলে উঠলো – ‘অয়ি রী সাক্ষী রী মোর খ্বাজা ঘর অয়ি
( প্রেক্ষাপট / সূত্র: … In Freedom’s Shade by Anis Kidwai)
Image Source: https://diasp.de/tags/hindustan

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s