খিদিরপুরের কিড সাহেব

আলেকজেন্ডার কিড ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর বেঙ্গল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিভিশনের অফিসার ছিলেন । কিন্তু সেনা ইঞ্জিনিয়ারের ভূমিকার বাইরেও বেশ কিছু কাজ আছে ভদ্রলোকের । তাছাড়া এলাহাবাদে বাদশাহ জাহাঙ্গীরের প্রাসাদের সংস্কার ও পরিমার্জনের জন্য খুঁড়াখুড়ির সময় উনি জেড পাথরের একটি কচ্ছপ মূর্তি উদ্ধার করেন। সেটি পরে ব্রিটিশ মিয়াজিয়ামে দান করেন তার এক বংশধর। সেটি “the jade terapin from Allahabad” নামে বিখ্যাত। আলেকজান্ডার মারা যান ১৮২৬-এ।
আগেকার দিনে যেমন হতো, এই আলেকজান্ডার সাহেবের এদেশীয় স্ত্রীর গর্ভে তিনটি সন্তান হয়। কালে দিনে এই তিনজনের মধ্যে জেমস কিড এই ফিরিঙ্গি বা ইউরেশিয়ান জনগোষ্ঠীর একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা হয়ে উঠবেন।
এই সন্তানদের জন্যও আলেকজেন্ডার সাহেব কিন্তু নিজের পিতার দায়িত্ব পালনে কোনো ত্রুটি রাখেন নি। ছেলেদের উচ্চ শিক্ষার জন্য ইংল্যান্ড পাঠিয়েছিলেন, যেখান থেকে জাহাজ তৈরির কলাকৌশল শিখে তারা কলকাতায় ফেরেন। এদিকে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির উৎসাহে ১৭৭০ সালে কলকাতায় কর্নেল ওয়াটসনের হাতে একটি ডক স্থাপিত হয়েছে। তারপর ওয়াটসন সাহেব থেকে তার মালিকানা এসেছে কোম্পানির মাস্টার বিল্ডার” মিঃ. এ. ওয়াডেলের কাছে। ১৮০০ সাল নাগাদ, সেখানেই শিক্ষানবিশি শুরু করেন দুই ভাই জেমস ও রবার্ট কিড। মিঃ. ওয়াডেল অবসর নিলে এই দুই ভাই ডকের মালিকানা সত্ব কিনে নেন ও ডাকটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্টানে রূপান্তরিত করেন। এই পরিবারের নামানুসারেই এলাকাটির নাম হয়েছিল “কিড-এর পুর” , আর তার থেকেই “খিদিরপুর” !!
১৮০৬ থেকে ১৮২৭ কিড সাহেব দীর্ঘ ২২ বছর হুগলি নদীর জোয়ার ভাটার পর্যবেক্ষণ নথিবদ্ধ করেছিলেন। এই ধরণের প্রথম কাজ হুগলি নদীর উপর। এছাড়াও কিড ভাইদের সময় এই ডকে অনেকগুলি উন্নতমানের জাহাজ তৈরী হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ১৮২৩ সালে নির্মিত ‘ডায়ানা’ – যেটি হুগলি নদীর প্রথম স্টিমার বলে বিখ্যাত।
ক্যান্টন থেকে কোম্পানির একজন ফ্যাক্টর এই তামার বয়লার সমেত ১৬ হর্স পাওয়ারের দুটি ইঞ্জিনের এই স্টিমারটির বরাত দেন ক্যান্টন নদীতে চলাচলের জন্য। কিন্তু সেই প্রকল্প চালু করতে না পেরে পুরো জিনিসটাই ফের কলকাতায় ফেরত পাঠিয়ে সরকারের কাছে ৬৫০০০ টাকায় বিক্রির প্রস্তাব দেন। সরকার এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে, কলকাতার ১১ জন ব্যবসায়ী সেটি কিনে নেন ও তার উপর আরো ১০,০০০ টাকা খরচ করে ওক কাঠের ফ্রেমটি বদলে আরো টেকসই সেগুনের ফ্রেম লাগিয়ে নিয়ে ১৮২৩ সালে জলে নামিয়ে দেন।
এর এক বছর পর বার্মার সাম্রাজ্যের সাথে যুদ্ধ শুরু হয় ব্রিটিশদের। সেট সময় সরকার ৮০,০০০ টাকায় স্টিমারটি কিনে যুদ্ধের কাজের জন্য। সেই যুদ্ধে এই স্টিমার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করে আর ব্রিটিশদের জয় নিশ্চিত করে। তাই বলা যেতে পারে যে যুদ্ধে ব্যবহৃত অন্যতম প্রথম স্টিমার এই ডায়না। যুদ্ধে জয়ী হওয়ার ফলে আরাকান, আসাম ও তার সাথে কাছাড় ও জৈন্তিয়া পাহাড়ে বৃটিশদের রাজত্ব সুপ্রতিষ্ঠিত হয়। কিড সাহেবের গল্পে সিলেট আর খাসি-জৈন্তিয়া পাহাড় আরেকবার আসবে। তবে অন্যভাবে।
খিদিরপুরের এই সাফল্যের হাত ধরেই এক সময় জাহাজ নির্মাণ কলকাতার “সানরাইজ” ইন্ডাস্ট্রির মর্যাদা পেতে শুরু করেছিল। প্রসঙ্গত বলে রাখি যে খিদিরপুর ডক-ই কলকাতার একমাত্র ডক ছিল না। গিলেট সাহেব ব্যাংকশালের কাছে আরেকটি ডক তৈরী করেছিলেন। পরে সালকিয়ার J. A. Currie & Co-র ডকে এই ডায়না-র ইঞ্জিন দিয়েই সম্পূর্ণ নতুন একটা জাহাজ তৈরী হয় ১৮৩৬ সালে।
আবার কিড সাহেবের গল্পে ফিরে যাই। ১৮১৪ সালে তার নিজের তৈরী “জেনারেল কিড” নামের একটি জাহাজে জেমস সাহেব একবার ইংল্যান্ডে পাড়ি দেন। সেই যাত্রায় একসাথে প্রায় ১৭ জাহাজকে এস্কর্ট করে নিয়ে যাচ্ছিল ব্রিট্রিশ রণতরী “সেমিরামিস” (Semiramis)। ইতালির সেন্ট হেলেনা দ্বীপের কাছে নৌবহরের আরেকটি জাহাজ “ভ্যানিস্টার্ট”-এর সাথে দুর্ঘটনায় সাংঘাতিক ক্ষতিগ্রস্থ হয় এসকর্ট জাহাজটি। প্রায় ডুবন্ত অবস্থায় তাকে সেন্ট হেলেনা বন্দরে নিয়ে আসা হলো। ক্ষয়ক্ষতির বহর দেখে সবাই রায় দিলেন যে এই ক্ষতি মেরামত করা বেশ দুঃসাধ্য কাজ – প্রায় অসম্ভব। এদিকে যুদ্ধের সময়। পাইলট জাহাজ ছাড়া লক্ষ লক্ষ পাউন্ড মূল্যের সামগ্রী সমেত বাকি পথটা পাড়ি দেওয়াতেও প্রচুর ঝুঁকি থেকে যায়। এই সময় জেমস কিড নিজে সেই মেরামতির দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিলেন ও নৌবহরের সব কাঠ মিস্ত্রির সাহায্যে ১০ দিনের মধ্যে জাহাজটিকে আবার জলে ভাসার যোগ্য করে তুললেন।
এই ঘটনার পর সকলে ভাবলেন যে মিঃ. কিড নিশ্চয়ই নিজের কাজের জন্য আকাশ ছোঁয়া পারিশ্রমিক চাইবেন। কিন্তু সকলকে আশ্চর্য করে তিনি কোনো পারিশ্রমিক-ই দাবি করলেন না। অবশ্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির নৌ-সেনাধ্যক্ষ তার সেই সেবার যথার্থ মূল্য দিতে ভোলেননি। মিঃ. কিডকে দরাজ প্রশংসায় ভরিয়ে, তখনকার দিনেই প্রায় ১০০ গিনি মূল্যের একটি রুপোর পদক পুরস্কার স্বরূপ দেওয়া হয়।
এই ঘটনার পর কোম্পানি বাহাদুর ও বিশেষ করে নৌবাহিনীর কাছে তার মর্যাদা বৃদ্ধি পায়। সেই প্রতিপত্তির ছোঁয়া লাগে তার সামাজিক জীবনেও।
কোম্পানির আমল থেকেই ইউরোপিয়ান ও ইউরেশিয়ানদের মধ্যে আর্থ-সামাজিক বৈষম্য বেশ প্রকট ছিল। খাঁটি ইউরোপিয়ানদের বিত্ত ও সামাজিক প্রতিপত্তির ছিঁটে ফোটাও জোটেনি ইউরেশওয়ান বা ফিরিঙ্গি জনগোষ্ঠীর ভাগে। শাসক ও শাসিতের মধ্যে যে দৃঢ় সামাজিক ভেদরেখা তৈরী করতে চাইছিলেন ব্রিটিশ শাসকরা, তা বারবার গুলিয়ে যাচ্ছিল এই মিশ্র রক্তের জনগোষ্ঠীর জন্য। নিজেদের ইউরোপীয়ানত্ব সংরক্ষণের জন্য বার বার ব্রিটিশ ভারতের ইউরোপিয়ান “সোসাইটি” ইউরেশিয়ানদের দূরে ঠেলে দিয়েছে। অন্যদিকে, বেশিরভাগ ইউরেশিয়ারনাই যেহেতু সরকারি চাকরির সাথে যুক্ত ছিলেন, এদেশের মানুষও তাদের শাসক ও পরাধীনতার সাথে আইডেন্টিফাই করে পর করে দিয়েছে। এই সংঘাত ও বিড়ম্বনার দলিল যেন হেনরি ডিরোজিও, জেমস কিড-দের মতো যশস্বী ইউরেশিয়ানদের জীবন।
ইউরেশিয়ানদের এই সামাজিক ত্রিশঙ্কু অবস্থার প্রভাব সব থেকে বেশি পড়ে তাদের রোজগারের ব্যবস্থার উপর। নামে ‘তাল পুকুর – কিন্তু ঘটি ডোবে না’ – প্রবাদের মতো ফিরিঙ্গিদের জাত্যাভিমান সাধারণ দেশীয় লোকেদের মতো অন্য পেশায় যাওয়ার পথে তাদের মানসিক বাধা হিসাবে পাঁচিল তুলে দাঁড়ালো। ইংরেজি বলতে পারা, সাহেবি পোশাক পরা খ্রিস্টান ছেলেরা কি করে চাষাবাদ বা অন্য পেশায় নাম লেখাবে? এটাই ছিল ফিরিঙ্গিদের মধ্যে সাধারণ মানসিকতা। এদিকে শুধু মাত্র সরকারি চাকরিতে তাদের সকলের গ্রাসাচ্ছাদনের ব্যবস্থা হওয়াও অসম্ভব। এই অবস্থায় নিজের উদাহরণ দিয়ে ফিরিঙ্গি ছেলেদের কারিগরি কৌশল আয়ত্ব করে জীবিকা নির্বাহের রাস্তা খুলে দেন জেমস কিড। নিজের খরচে “Thoughts, How to better the condition of Indo-Britons” শীর্ষক একটি পুস্তিকা ছাপিয়ে তার মধ্যে প্রায় ৪০ রকম ট্রেড বা জীবিকার সন্ধান তুলে ধরেছিলেন নিজের স্বজাতির যুব সম্প্রদায়ের সামনে। এই উদ্দেশ্যে ক্যালকাটা এপ্রেনটিসিং সোসাইটি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন কিড, সংগঠনের সম্পাদক হিসাবে। এমনকি নিজের জাহাজ তৈরির কারখানায় ছেলেদের শিক্ষানবিশ হিসাবে নিয়োগ করেন, যাতে সবাই বুঝতে পারে সে এই পদ্ধতিতে কর্মসংস্থানের উপায় সত্যিই হতে পারে।
কিন্তু এই যাঁতাকলে পড়েও শুধু হাহুতাশ আর ইউরোপীয়দের দোষারোপ করার সহজ লাইন না নিয়ে জেমস কিড হিন্দু-মুসলিম-খ্রিষ্টান-ফিরিঙ্গি- সাহেব নির্বিশেষে সামগ্রিক সমাজ কল্যাণ ও উন্নয়নে নিজের সম্পূর্ণ ক্ষমতা নিংড়ে দিয়েছিলেন। এখানেই তার অনন্যতা, স্বাতন্ত্র ।
একদিকে দেখা যাচ্ছে যে ১৮৩৩-এর ভয়ানক বন্যায় উদ্বাস্তু হয়ে আসা সুন্দরবনের সাধারণ নিরন্ন মানুষদের খাদ্য ও সাময়িক বাসস্থানের ব্যবস্থা করে দিচ্ছেন তিনি খিদিরপুরে। অন্যদিকে পরদেশে বান্ধবহীন অনেক ইউরোপীয়ের ত্রাণকর্তা হয়ে মাসের পর মাস তাদের অতিথি সেবা করেছেন, যতদিন না তাদের উপযুক্ত রোজগারের ব্যবস্থা হয়। বেঙ্গল হরকরা পত্রিকায় তার মৃত্যুর পর শোক সংবাদ ছেপে লিখেছিল :
” এই প্রকৃত দরদী মানুষটি জনসেবায় প্রচুর দান করতেন কিন্তু সেই দানের মধ্যে কখনো জাঁক প্রকাশ পেতো না বা অপব্যয়ের প্রবণতা দেখা যেত না; সেই দানের মাধ্যমে একটি দরদী হৃদয়ের নিঃশব্দ নিবেদন প্রকাশিত হতো যা অন্যের দুর্দশা সহ্য করতে পারতো না। দুঃখী মানুষের প্রতি সহানুভূতি ছিল সেই সব দানের উৎস – যা কিনা ছিল অসংখ্য, অবিরাম এবং সুপ্রযুক্ত;..” (অনুবাদ আমার করা)
জেমস কিড সম্পর্ক তথ্য খুঁজতে গিয়ে হাতে এলো কোম্পানির আমলে তৈরী আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্থার সাধারণ সভার কিছু দলিল। ১৮২০ নাগাদ কেরি সাহেবের উৎসাহে প্রতিষ্ঠিত হয় হয় আলিপুরের এগ্রিকালচারেল সোসাইটি, পরে যার নাম বদলে রাখা হয় এগ্রি-হর্টিকালচারেল সোসাইটি। প্রথম থেকেই এই সোসাইটির সদস্য ছিলেন কিড সাহেব। ১৮৩০-এর আশেপাশে এই সোসাইটি কলকাতার স্থানীয় বাজারে ভালো সবজি ও ফল জোগানোর জন্য বিশেষ উৎসাহের সঙ্গে কিছু পরীক্ষানিরীক্ষা শুরু করেন। আগে একটা লেখায় জানিয়েছি যে সেই সময় কলকাতার বাজারে সাধারণ ভাবে আলু পাওয়া যেত না। বোম্বাই থেকে জাহাজে আসতো আলু আর তার নাম ছিল বোম্বাই আলু। স্বামীজীর ভাই মহেন্দ্রনাথ দত্তের লেখায় এই তথ্যের সমর্থন আছে।
এই অবস্থায় সোসাইটি বাজারে আলুর যোগান বাড়ানোর উদ্দেশ্যে পাহাড়ি জায়গায় আলুর চাষের প্রস্তাব গ্রহণ করেন। সিলেটের জনৈক ব্যাবসায়ী জর্জ ইনগ্রেস-এর সাথে আলোচনা করে এই প্রস্তাব দেন কিড সাহেব। জৈন্তিয়া পাহাড়ে চাষিদের বীজ আলু সরবরাহ করা হয়, যার থেকে প্রথম বছর ১৮৩৬-এ সোসাইটির সভায় জানানো হয় যে ১১১ মন আলু সেই পরীক্ষার ফল হিসাবে পাওয়া গেছে। স্থানীয় বাজারে সেই আলু বিক্রির ব্যবস্থা করে সোসাইটি। সোসাইটির সদস্যদের জন্য ১০ টাকা মন দরে আর বাইরের লোকের জন্য ১২ টাকা মন দরে। কৌতূহলের তথ্য এই যে সেই আলু বিক্রির আলোচনাতেও দেখছি যে সদস্যরাও দু-মনের বেশি আলু সংগ্রহ করতে পারবেন না বলে জানানো হচ্ছে। অর্থাৎ রেশনিং ব্যবস্থা শুরু হয়ে গেল আর কি !!
ভেবে দেখুন, এই মাগ্গি-গন্ডার বাজারে মাসের শেষে ছেলেপুলের মুখে দুটি ভাত তুলে দেওয়ার জন্য আলুই ভরসা অনেক বাড়িতে। ছাপোষা গৃহস্থের সেই স্বস্তি টুকুর জন্যও চেষ্টার কসুর করেননি ভদ্রলোক। গুণী মানুষদের কীর্তি এই ভাবেই বোধহয় বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে যায়। তাই দেখি যে মৃত্যুর এক বছর আগে ১৮৩৫ সালে রাধাকান্ত দেব এবং দ্বারকানাথ ঠাকুরের সাথে ‘জাস্টিস অফ পিস্” বা স্থানীয় বিচারক ও শান্তিরক্ষক হিসাবে জেমস কিডকে নিয়োগ করছেন গভর্নর জেনারেল ।
এই লেখাটা তৈরির সময় ক্রিস্টোফার হেয়েস-এর একটা বই খুব সাহায্য করেছে (Poor Relations: The Making of a Eurasian Community in British India, 1773-1833 By Christopher J. Hawes) সেখানে লেখক খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা মন্তব্য করেছেন। ওয়ারেন হেস্টিংস-এর মতো গবর্নর জেনারেল ইউরেশিয়ানদের প্রতি অনেক উদার মনোভাব পোষণ করতেন এবং তাদের মধ্যে যারা যোগ্য, তাদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নতির পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতেন না। তবে এই উদারতা নিতান্তই হেস্টিংস ও হেস্টিংসীয় সামাজিক আবহাওয়ার ফসল, যাতে তার স্ত্রী মেরি’র প্রচুর ভূমিকা ছিল। এই পরিবেশ হেস্টিংসের আমল পার হয়ে ১৮২০-র দশক পর্যন্ত হয়তো টিকে ছিল। কিন্তু তার পর ইউরেশিয়ানরা আবার বৈষম্যের শিকার হতে শুরু করল।
কিডের ক্ষেত্রেও সেই বৈষ্যমের ছায়া দেখা যায়। স্থানীয় খবরের কাগজে প্রকাশিত ইঙ্গিত অনুযায়ী, শেষ জীবনে কোম্পানির “মাস্টার বিল্ডার” পদ থেকে তাকে সরিয়ে দেন পরবর্তী গভর্নর জেনারেল উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক, উপযুক্ত পেনশন বা ক্ষতিপূরণ ছাড়াই। (Calcutta Courier, 26th October 1836).
জেমস কিডের নামে কোনো রাস্তা বা সৌধর নাম রাখা হয়নি কলকাতা শহরে। সেই অর্থে নেই তার কোনও স্মৃতি সৌধ। এমনকি স্কটিশ কবরখানায় তাঁর সমাধিটাও সঠিক ভাবে চিহ্নিত করতে কালঘাম ছুটে যাচ্ছে গবেষকদের। কিন্তু হারিয়ে গিয়েও হারায় না জেমস কিডের মতো মানুষ। সাধারণ মানুষের মুখে মুখে তৈরী হওয়া খিদিরপুরের নামে আর সমাজের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের মধ্যে অমর হয়ে রয়েছে তার কর্মময় জীবনের ইতিহাস।

তথ্য সূত্র:
• Poor Relations : Making of the Eurasian Community in British India : Christopher Hewes
• Calcutta Past and Present : Kathleen Blechynden
• The good Old Days John company by W H Carey
• Transactions of the Agricultural and Horticultural Society of India, Volume 3 (Page 54)
• A memoir of Indian Surveys by Clements Markham

সঙ্গের ছবিতে দেখা যাচ্ছে যুদ্ধের জন্য গ্রেটার আন্দামানের পোর্ট কর্নওয়ালিস থেকে রেঙ্গুনের উদেশ্যে নৌবহর যাত্রা করছে। নিচে বাঁ দিকের স্টিমারটি ‘ডায়না’ (source wikipedia)

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s